মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চেরাসের তামান লেং সেং এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ বিলাসবহুল অবৈধ ক্লাবে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ৫২ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ-জেআইএম। শনিবার ভোররাতে ‘অপস গেগার’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ক্লাবটির একাধিক গোপন কক্ষ ও পালানোর পথেরও সন্ধান পাওয়া যায়।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, রাত একটার দিকে শুরু হওয়া অভিযানে দেখা যায়, একটি বিলাসবহুল সার্ভিসড রেসিডেন্সের ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় ক্লাবটি পরিচালিত হচ্ছিল। পুরো স্থাপনাটি সিসিটিভির আওতায় ছিল। প্রবেশপথে তিন স্তরের ভারী লোহার দরজা বসানো ছিল, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান বিলম্বিত হয় এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মাত্র দুই মাস আগে চালু হওয়া ক্লাবটিতে ছয় ঘণ্টার একটি প্যাকেজের জন্য সর্বোচ্চ এক হাজার ৩০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো।
অভিযানে আটক ৫২ জনের মধ্যে চারজন মালয়েশিয়ার নাগরিক। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ক্লাবটির ব্যবস্থাপক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। অপরজন ৫০ বছর বয়সী এক নারী, যিনি বিদেশি জিআরওদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা হিসেবে সন্দেহভাজন।
আটক বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন ৩৩ জন ভিয়েতনামের নারী, একজন থাই নারী, ১০ জন বাংলাদেশি পুরুষ, চারজন মিয়ানমারের নাগরিক এবং একজন চীনের নাগরিক।
তল্লাশিতে ক্লাবটির ১৪টি কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি কক্ষ নির্মাণাধীন ছিল। ভবনের পেছনে একাধিক গোপন বের হওয়ার পথও রাখা হয়েছিল, যাতে অভিযানের সময় দ্রুত পালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
আটক স্থানীয় নারী দাবি করেন, বিদেশি নারীরা স্বেচ্ছায় সেখানে কাজ করতে এসেছেন এবং তাঁদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
হামশা ইনজাউ বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন, ইমিগ্রেশন বিধিমালা তদন্ত চলছে। এ ছাড়া অভিযানের সময় উপস্থিত ১৯ জন মালয়েশিয়ার নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে কুয়ালালামপুর ইমিগ্রেশন বিভাগের ৪০ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের পাশাপাশি কুয়ালালামপুর সিটি হলের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।