মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জালান চেরাস এলাকার একটি তিন তারকা হোটেলে বিদেশি নারীদের দিয়ে পরিচালিত দেহব্যবসার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে পরিচালিত অভিযানে চক্রটির সঙ্গে জড়িত আটজনকে আটক করা হয়েছে।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে হোটেলের কয়েকটি কক্ষে বিদেশি নারীদের ক্রেতাদের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়। একটি কক্ষকে অপেক্ষমাণ কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, যেখানে গ্রাহক না আসা পর্যন্ত নারীরা অবস্থান করতেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব যৌনসেবার প্রচার করা হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ২৩০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নেওয়া হতো। বুকিংয়ের সমন্বয় করতেন এক স্থানীয় ব্যক্তি, যিনি চক্রটির সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন।
আটক হওয়া ২১ বছর বয়সী এক ইন্দোনেশীয় নারী জানান, বন্ধুর মাধ্যমে কাজের প্রস্তাব পেয়ে তিনি গত এপ্রিল মাসে পর্যটক ভিসায় মালয়েশিয়ায় আসেন। তিনি সাধারণত প্রতিদিন একজন গ্রাহককে সেবা দিতেন এবং প্রতিটি গ্রাহকের জন্য প্রায় ১০০ রিঙ্গিত কমিশন পেতেন। তিনি নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান।
হোটেলের রিসেপশনে কর্মরত এক স্থানীয় নারী সেখানে এ ধরনের কার্যক্রম চলার বিষয়টি জানতেন বলে স্বীকার করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, অভিযানে মোট আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুজন পুরুষ। নারীদের মধ্যে পাঁচজন ইন্দোনেশিয়ার এবং একজন থাইল্যান্ডের নাগরিক। আটক দুই পুরুষের একজন স্থানীয়, যিনি চক্রটির সমন্বয়কারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যজন হোটেলের কর্মচারী, নেপালের নাগরিক।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আটক বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং ভিসার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে।
হামশা ইনজাউ বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।