রিও ডি জেনেইরো, ৭ জুলাই (PBN NEWS)— ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি, আইনের শাসন এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি (NPT)-এর ওপর “একটি মারাত্মক আঘাত” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
রোববার ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্যকালে আরাগচি বলেন, ইসরায়েল গত ১২ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তা ও অংশগ্রহণে ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক “সামরিক ও সন্ত্রাসী হামলা” চালিয়েছে।
“এই বেআইনি হামলায় ৬,০০০-এর বেশি নিরপরাধ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন এবং আবাসিক এলাকা, অবকাঠামো ও শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে,” বলেন আরাগচি। “এটি জাতিসংঘ সনদ, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন, যা ২০১৫ সালে ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে সমর্থন করেছিল।”
তিনি আরও জানান, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা আগ্রাসন শুরু করে, যাতে উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা নিহত হন। ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি আগ্রাসনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়।
আরাগচি বলেন, “IAEA (আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা) দ্বারা নজরদারির আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় কেবল অনুমানের ভিত্তিতে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তির চরম লঙ্ঘন।”
তিনি জানান, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বরাবরই কঠোর আন্তর্জাতিক নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং এটি পুরোপুরি আইনসঙ্গত।
২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের পক্ষে একতরফাভাবে আগ্রাসন বন্ধের ঘোষণা দেন। আরাগচি বলেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের পর এই ঘোষণা আসে।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের দায় শুধু একটি দেশের নয়, বরং গোটা অঞ্চল এবং এর বাইরেও প্রভাব ফেলবে। “এই হামলা জাতিসংঘ-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থাকে দুর্বল করে আইনের বদলে স্বেচ্ছাচারিতাকে উৎসাহ দিচ্ছে।”
আরাগচি বিশ্ব সম্প্রদায়, প্রতিটি রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের প্রতিটি কাঠামো ও গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানান— যেন তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনেন।
তিনি ব্রিকস সদস্যদের ধন্যবাদ জানান, যারা ইরানের ওপর চালানো এই পারমাণবিক শক্তিধর দুটি দেশের হামলার নিন্দা করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
“গ্লোবাল সাউথ-এর স্বীকৃত কণ্ঠ হিসেবে, ব্রিকসকে আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতার পক্ষ থেকে জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌম সমতা, বলপ্রয়োগ নিষেধ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের নীতিগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে,” বলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শাসনের জন্য গ্লোবাল সাউথ সহযোগিতা জোরদার করা” থিম নিয়ে রোববার শুরু হয় দুদিনব্যাপী ১৭তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন।
২০২৪ সালে ইরান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইথিওপিয়া এই জোটে নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়। বর্তমানে ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৩৬ শতাংশ এবং বৈশ্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব করে।