সানা, ৭ জুলাই (PBN NEWS) – গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে, এর মধ্যেই ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান রোববার ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর শহর হোদেইদাহতে অন্তত ২০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই “ইসরায়েলি আগ্রাসনের” মোকাবিলা করেছে এবং প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
“ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জনগণ ও জাতির মুক্ত মানুষদের আশ্বস্ত করছে যে, আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় আছি। আল্লাহর সাহায্যে আমরা আগ্রাসীদের মোকাবিলায় পুরোপুরি সক্ষম,” বিবৃতিতে বলা হয়। “এই হামলাগুলো আমাদের সামরিক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে না। গাজা ও ফিলিস্তিনের জন্য আমাদের সমর্থনমূলক অভিযান আরও জোরদারভাবে চলবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের দেশ ও জাতিকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করবো।”
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এর আগে হুমকি দিয়েছিল যে, তারা ইয়েমেনের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে সামরিক হামলা চালাবে। এর অংশ হিসেবে তারা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর — হোদেইদাহ, রাস ইসা এবং আস-সালিফ — ও হোদেইদাহ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
গাজায় চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে ইয়েমেনি বাহিনী সমুদ্রপথে কৌশলগত অবরোধ শুরু করে। এই অবরোধের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কাছে সামরিক সহায়তা পাঠানো বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গাজার মানবিক সংকটের বিষয়ে জোরালো প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করা।
ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী ঘোষণা করেছে, যতক্ষণ না ইসরায়েল গাজায় তার স্থল ও বিমান হামলা বন্ধ করে, ততক্ষণ তারা তাদের প্রতিরোধমূলক হামলা অব্যাহত রাখবে। অক্টোবর ৭, ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৭,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
ইসরায়েলের এই নতুন হামলা ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক অভিযানের নতুন অধ্যায় সূচিত করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ঘটাতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।