মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালেও ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত সমাপ্ত করতে চায় ইসরায়েল, এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর অঞ্চলজুড়ে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের নতুন অধ্যায়। এই প্রেক্ষাপটে, ইসরায়েল সরকার কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।
ইসরায়েলি একাধিক সূত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে জানিয়েছে, তেল আবিব এখন এমন একটি অবস্থা চায় যেখানে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস পায় এবং সংঘাত দ্রুত থেমে যায়, যদিও ইসরায়েল এখনো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
খাইবার ক্ষেপণাস্ত্র ও জবাবী হামলা
শনিবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোর্দো পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণের পর ইরান সোমবার ব্যাপকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায়। এই হামলায় ইরান প্রথমবারের মতো বহুমুখী ও বিধ্বংসী ‘খাইবার’ ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে, যা সংঘাতের মাত্রা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
উত্তরে ইসরায়েল ইরানের জেল, সামরিক ঘাঁটি এবং সরকারি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক মনোভাবের কারণে ইসরায়েল আরও বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।
খামেনেয়ির হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি ঘোষণা দিয়েছেন, “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ অব্যাহত থাকবে। তারা একটি মারাত্মক ভুল করেছে এবং এখন তাদের শান্তি পেতেই হবে। সেই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”
এছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় তবে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা পুরো অঞ্চল এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।
শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী তেল আবিব
এই সব সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েল কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তেল আবিব চায়, দ্রুত যুদ্ধ থেমে যাক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হোক।