কুয়ালালামপুর, ২৭ জুলাই : চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৬ দিনে প্রবাসীরা বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ১৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ১.৯৩ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স, যার সিংহভাগ এসেছে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের কাছ থেকে।
রোববার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে (২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রথম ২৬ দিন) দেশে এসেছিল ১৫৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা) বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
“আমরা খাটি, কিন্তু আমাদের কথা কেউ ভাবে না”
প্রবাসীরা হাড়ভাঙা পরিশ্রমের অর্থ দেশে পাঠালেও নিজেদের জীবনমান উন্নত হচ্ছে না, বরং দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পিবিএন সংবাদকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়া যুবদল সভাপতি প্রার্থী ও প্রবাসী ব্যবসায়ী মিনহাজ মন্ডল বলেন:
আমার সাক্ষাৎকারের শুরুতেই আমি বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি গত ১৬ মে মালয়েশিয়া সফরে আসার সময় আমার নেতৃত্বে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি— মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা, সিন্ডিকেট মুক্ত শ্রমবাজার এবং পাসপোর্ট জটিলতা নিয়ে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তিনি মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার বিষয়টি সমাধান করেছেন। আমি আশাকরি বাকি দুটি বিষয়ও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।”
তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা কঠিন খাটুনি খেটে দেশে টাকা পাঠাই, কিন্তু আমাদের প্রবাসীদের কথা কেউ ভাবে না। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর ড. ইউনুস ক্ষমতায় এসে প্রবাসীদের জন্য কিছু করবেন ভেবেছিলাম। অবৈধ প্রবাসীদের বৈধকরণে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন— কিন্তু কিছুই হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের হয়রানি, পাসপোর্টের জটিলতা ও দেরিতে সেবা পাওয়ার কারণে প্রতিদিন শত শত প্রবাসী মালয়েশিয়া প্রশাসনের হাতে গ্রেপ্তার হচ্ছে।
মিনহাজ আরও বলেন, “হাইকমিশনের সঠিক পদক্ষেপ তো দুরের কথা, বরং হাইকমিশনার শামীম আহসানের ছত্রছায়ায় আউটসোর্সিং কোম্পানি এসকেল-কে পাসপোর্ট সেবা দিয়ে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। এর দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন হাজারো প্রবাসী।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
“বাংলাদেশে যদি নির্বাচিত সরকার আসে, বিশেষ করে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে প্রধান কাজ। হাইকমিশনে কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রাখা হবে না। পাসপোর্টে দেরি, গ্রেপ্তার প্রবাসীদের আইনি সহায়তা না দেয়া, কিংবা ট্রাভেল পাসে বাণিজ্য— এসব আর হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে হাইকমিশনকে জানাতে চাই— প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান করুন। প্রয়োজনে আমরা নিজেরা সহায়তা করব। টিকিটের অভাবে যারা দেশে ফিরতে পারছেন না, তাদের জন্য আমরা সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
“আমাদের নেতা তারেক রহমান নিজে প্রবাসে আছেন, তাই তিনি জানেন স্বজনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট কতটা। আমি বিশ্বাস করি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে প্রবাসীদের নিয়ে আর কেউ খেলা করতে পারবে না।”