লুমুত, পেরাক: সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করা একদল অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। বিশেষ অভিযানে ২০ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক দাতো জাকারিয়া শাবান জানান, ৭ মে রাত ১টা ২৫ মিনিটে পেরাকের লুমুত এলাকার তেলুক সেনানগিন উপকূলে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেরাক ইমিগ্রেশন বিভাগের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
তিনি জানান, জনসাধারণের দেওয়া তথ্য ও টানা তিন সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তদন্তে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ার তানজুং বালাই এলাকা থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের মালয়েশিয়ায় আনা হচ্ছিল।
অভিযানের সময় ৯ জন পুরুষ ও ১১ জন নারীসহ মোট ২০ জন ইন্দোনেশিয়ান নাগরিককে আটক করা হয়। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, আটক হওয়া কয়েকজন “নিষিদ্ধ অভিবাসী” হিসেবে ইমিগ্রেশন বিভাগের কালো তালিকাভুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ তারা আগে থেকেই মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষিদ্ধ ছিলেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, চক্রটি মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করে অভিবাসীদের গোপনে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসত, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।
উপকূলে পৌঁছানোর পর তাদের বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে নির্ধারিত গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো।
প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত করে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৩৬ এবং ধারা ৬(১)(সি) অনুযায়ী তদন্ত করা হচ্ছে।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের ইমিগ্রেশন অফিসে নেওয়া হয়েছে।
দাতো জাকারিয়া শাবান বলেন, মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।