মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র, ২৯ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এক গির্জায় ভয়াবহ গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কমপক্ষে চারজন নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্র্যান্ড ব্ল্যাঙ্ক শহরের দ্য চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টস–এ এ হামলা চালান ৪০ বছর বয়সী সাবেক সেনা থমাস জ্যাকব স্যানফোর্ড।
পুলিশ জানায়, স্যানফোর্ড প্রথমে তার পিকআপ ট্রাকটি গির্জার প্রধান প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দেন। এরপর একটি অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে উপাসকদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালান এবং পরে ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
মার্কিন মেরিন কর্পসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, থমাস স্যানফোর্ড ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মেরিন বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। সার্জেন্ট পদে থাকাকালীন সময়ে তিনি একাধিক পদক পান। ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’–এর অংশ হিসেবে ইরাকে নিয়োজিত ছিলেন এবং এর আগে জাপানেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেনা জীবন শেষে তিনি কোকা-কোলার ট্রাকচালক হিসেবে কাজ করতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্যানফোর্ড বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক পুত্রসন্তান রয়েছে। সন্তানের জন্মের পর বিরল জেনেটিক রোগ ‘কনজেনিটাল হাইপারইনসুলিনিজম’ ধরা পড়ে। দীর্ঘ হাসপাতালযাত্রা, একাধিক অস্ত্রোপচার এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা খরচ পরিবারকে আর্থিকভাবে চরম সংকটে ফেলে। সন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি চাকরি থেকেও দীর্ঘ ছুটি নিয়েছিলেন।
তার মায়ের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, স্যানফোর্ড ছিলেন শিকারপ্রেমী। হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকারের ছবি প্রায়ই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করতেন।
যদিও স্যানফোর্ডের সামরিক অতীত, আর্থিক চাপ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা সংকট সামনে এসেছে, তবুও মিশিগান চার্চে এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা তার পারিবারিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সম্প্রদায় এ ঘটনায় শোকাহত। নিহতদের স্মরণে গির্জার সামনে ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন মানুষজন।