মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গভীর রাতে ইরানের একাধিক স্থানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাসে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন) ইরানের স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে এই হামলা শুরু হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলা ছিল ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জবাব।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রথম দফা হামলায় হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এবং সিরিক ও জাস্ক বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে জাস্কে এবং ভোর সাড়ে চারটার দিকে বন্দর আব্বাসে আরও হামলা ও বিস্ফোরণের খবর জানানো হয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পর তেহরানও পাল্টা জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে হেলিকপ্টার ভূপাতিতের জন্য ইরানকে দায়ী করেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর টহল দেয়ার সময় ইরান হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের ভূখণ্ডের কাছাকাছি অবস্থানরত বিদেশি সামরিক বাহিনী ‘সবসময় ঝুঁকির মধ্যে’ রয়েছে। পরে তিনি নতুন মার্কিন হামলার জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরানি বাহিনী কোনও হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান।’