নিউইয়র্ক, ১৭ সেপ্টেম্বর : জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বুধবার সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত করেছে, যাতে কুয়েত ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের খোঁজ এবং ১৯৯০ সালের ইরাকি আগ্রাসনের সময় লুট হওয়া কুয়েতের জাতীয় সম্পদ ও আর্কাইভ ফেরত আনার তদারকির জন্য একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব ২৭৯২ অনুযায়ী, জাতিসংঘ মহাসচিব একজন জ্যেষ্ঠ দূত নিয়োগ করবেন যিনি কেবলমাত্র এই মানবিক বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো কারণ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইরাকে জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের (UNAMI) মেয়াদ শেষ হলে এই সংবেদনশীল ইস্যুটি ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “নিখোঁজ আত্মীয়দের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে পরিবারগুলিকে জানানো মানবিকভাবে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ।” এতে ইরাক ও কুয়েতের মধ্যে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (ICRC) তত্ত্বাবধানে অব্যাহত সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গত তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কুয়েত এখনও তার নিখোঁজ নাগরিকদের ফেরত পাওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নবনিযুক্ত প্রতিনিধি উভয় সরকার, আইসিআরসি ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। এর জন্য ব্যবহার করা হবে ডিএনএ বিশ্লেষণ, স্যাটেলাইট চিত্র, গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার এবং আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তি।
নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রশংসা করেছে, বিশেষত ২০২৪ সালে সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় অনুষ্ঠিত কর্মশালা, যেখানে নিখোঁজদের সন্ধান ও শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ভাগাভাগি করা হয়েছিল।
প্রস্তাবে ইরাকের আঞ্চলিক পুনর্মিলন প্রচেষ্টার ভূমিকাও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং ইরাক-কুয়েতকে আহ্বান জানানো হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা অন্যান্য যুদ্ধোত্তর অঞ্চলের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে।
জাতিসংঘ মহাসচিবকে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং এর পর প্রতি ছয় মাস অন্তর তা জমা দিতে হবে। পরিষদ এই ইস্যুর পর্যালোচনা করবে ৩০ জুন ২০২৮-এ এবং সর্বোচ্চ ৩১ ডিসেম্বর ২০৩০-এর মধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
যদি ওই সময়ের মধ্যেও সমস্যা অমীমাংসিত থাকে, ইরাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে নিজস্ব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।