মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জনপ্রিয় পাইকারি পোশাক বাণিজ্যকেন্দ্র জালান কেনাঙ্গায় পরিচালিত বৃহৎ পরিসরের ‘অপ মেগা’ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ১১১ জন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়বিষয়ক মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর কর্মকর্তারাও অংশ নেন। অভিযানের লক্ষ্য ছিল বিদেশি কর্মীদের ভিসার অপব্যবহার, অবৈধভাবে কর্মসংস্থান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
অভিযানের সময় বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পালানোর চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগে থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে রাখায় কেউ পালাতে পারেননি। তল্লাশির একপর্যায়ে কর্মকর্তারা কয়েকজন বিদেশিকে কাপড়ের বাক্সের ভেতরে, কাপড়ের স্তূপের নিচে এবং ব্যবহৃত পণ্যের স্তুপের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে দেখতে পান।
কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তালাবদ্ধ লোহার দরজা খুলতে লক কাটার ও বৈদ্যুতিক কাটিং যন্ত্র ব্যবহার করতে হয় অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের। এসময় কয়েকজন বিদেশি নিজেকে ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পূর্বে সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
আটকদের মধ্যে এক বাংলাদেশি নিজেকে শিক্ষার্থী বলে দাবি করলেও তিনি বৈধ স্টুডেন্ট পাস দেখাতে পারেননি। এছাড়া মালয় ভাষা ও ইংরেজিতে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতেও তার সমস্যা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, অভিযানে মোট ২৩৬ জনের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১১১ জন বিদেশি নাগরিককে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, কর্মী ভিসার অপব্যবহার, স্টুডেন্ট পাসের শর্ত লঙ্ঘন এবং অন্যান্য অভিবাসন বিধি ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
জাকারিয়া শাবান আরও জানান, শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধেই নয়, বৈধ নথিপত্র ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ কিংবা কর্মী ভিসার অপব্যবহার করে কাজ করানো নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে মালয়েশিয়ার প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।