উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেতে মালয়েশিয়ার আর এক ধাপ বাকি: রামানান

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু আয়ের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন থেকে মালয়েশিয়া এখন মাত্র এক ধাপ দূরে বলে জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যাটলাস পদ্ধতিতে’ হিসাব করা মালয়েশিয়ার মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) বেড়ে ১২ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ মাথাপিছু জিএনআই।

শনিবার (২৫ জুলাই) পেনাংয়ের কাছে পেরমাতাং পাওয়ের ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মারা (ইউআইটিএম) ক্যাম্পাসে জাতীয় প্রশিক্ষণ সপ্তাহ (এনটিডব্লিউ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন। এ সময় পেনাংয়ের মুখ্যমন্ত্রী চাও কোন ইয়োও উপস্থিত ছিলেন।

রামানান বলেন, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের অ্যাটলাস পদ্ধতিতে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের মাথাপিছু জিএনআইয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৭৬ মার্কিন ডলার। ফলে কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা অর্জনে মালয়েশিয়ার আর বেশি দূর যেতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। আমাদের লক্ষ্য খুব বেশি দূরে নয়।’

দেশটির অর্থনীতির আকারও বেড়েছে উল্লেখ করে রামানান বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বর্তমানে ৪৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ।

তিনি বলেন, এই অর্জন প্রমাণ করে মালয়েশিয়া সঠিক পথেই এগোচ্ছে। অর্থনীতি শক্তিশালী করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মীদের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই এই অগ্রগতি হয়েছে।

মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বচ্ছভাবে তহবিল ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও তুলে ধরেন রামানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার জনগণের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হলে শক্তিশালী, আস্থাশীল ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।

দেশটির মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচিতে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এইচআরডি করপোরেশন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও জানান তিনি। পেনাংয়ে এই সংস্থার নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৯২ জন।

রামানান জানান, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পেনাংয়ে প্রশিক্ষণ লেভি হিসেবে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার রিঙ্গিত সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে ১২৫ হাজার ৩৯৮টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়োগকর্তাদের দেওয়া লেভির প্রতিটি অর্থ অত্যন্ত সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ ও পোর্টফোলিও পুনরুদ্ধারের ফলে ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ রিঙ্গিত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

জাতীয় প্রশিক্ষণ সপ্তাহ (এনটিডব্লিউ) ২০২৬ প্রসঙ্গে রামানান বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ—তরুণ, কর্মজীবী, গৃহিণী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা—নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবেন।

আরো পড়ুন
© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »