কানাডার আলবার্টা প্রদেশকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রদেশটির অধিকাংশ ভোটার। স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোটার আলবার্টাকে কানাডার অংশ হিসেবেই রাখতে চান।
অন্যদিকে প্রদেশটিকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার। তবে এবারের ভোটে সরাসরি স্বাধীনতার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি; বরং ভবিষ্যতে এমন গণভোট আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সেটিই ছিল মূল বিষয়।
এদিকে এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে আলবার্টার স্বাধীনতার দাবিকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও এবারের ভোটে সরাসরি স্বাধীনতার প্রশ্নে মতামত নেয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে স্বাধীনতার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সেটিই ছিল মূল প্রশ্ন।
ফলাফল প্রকাশের পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জাতীয় ঐক্যের পক্ষে ভোটারদের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথও প্রাথমিক ফলাফলে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সমর্থকেরা জানিয়েছেন, এই ফলাফলে তাদের আন্দোলন থেমে যাবে না। তাদের যুক্তি, আলবার্টার জ্বালানি সম্পদ, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং প্রাদেশিক অধিকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিরোধের সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
আলবার্টা কানাডার অন্যতম প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রদেশ। তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি, জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাদেশিক অধিকার নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।
আর সেই অসন্তোষ থেকেই কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার দাবি রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে আসে। তবে স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন থাকলেও এবারের ভোটে অধিকাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
আলবার্টা নির্বাচন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভোট গণনার প্রাথমিক ফলাফল এখনো অনানুষ্ঠানিক। সব ব্যালট গণনা ও যাচাই শেষে আগামী ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটের দিন কয়েকটি কেন্দ্রে দেরিতে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে ফলাফল প্রকাশেও বিলম্ব ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলবার্টার গণভোটে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোটারদের স্পষ্ট অবস্থান উঠে এসেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ৭৭ ও ২৩ শতাংশের হিসাবকে প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।