মালয়েশিয়ায় পাঁচ নারীকে শ্লীলতাহানির দায়ে এক বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিককে ১৮ মাসের কারাদণ্ড এবং এক বেত্রাঘাতের দণ্ড দিয়েছেন দেশটির হাইকোর্ট। ৪১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মো. রমজান আলীর বিরুদ্ধে এই সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি দাতুক আসলাম জয়নুদ্দিন।
এর আগে গত ৬ মে চারটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১৪ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেছিলেন। বিচারক বলেন, ‘পাঁচটি মামলার জন্য আদালত একটি সমন্বিত সাজা প্রদান করবে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেয়া সাজা বাতিল করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের তারিখ ২৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হলো। এছাড়া একটি মামলায় তাকে একবার বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় এ অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা, বেত্রাঘাত অথবা এসবের সমন্বিত শাস্তি। এর আগে ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদাহ নুরদিনি বাহরুম আদালতের কাছে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘জনসমাগমস্থলে এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভুক্তভোগীদের জড়িয়ে ধরা, স্পর্শ করা ও অশালীনভাবে হাত দেয়া স্বাভাবিক আচরণ নয়। কোনও বিবেকবান ব্যক্তি এমন কাজ করতে পারে না।
তিনি আরও জানান, সাজা ভোগ শেষে রমজানকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রমজানের আইনজীবী দাতুক ড. মোহদ রাদজুয়ান ইব্রাহিম আদালতের কাছে তার মক্কেলকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন জানান। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা এ সংক্রান্ত সব ব্যয় বহন করতে প্রস্তুত।
গত ৬ মে এক জার্মান নারী ও ২১ থেকে ২৮ বছর বয়সী চার স্থানীয় নারীর শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন রমজান। গত ১০ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চান সো লিন এলআরটি স্টেশনের ফুটপাত, ট্রেনের ভেতর, মালুরি এমআরটি স্টেশনের এসকেলেটর এবং তামান মিদাহ এমআরটি স্টেশন থেকে মুজিয়াম নেগারা এমআরটি স্টেশনগামী ট্রেনের ভেতরে এসব ঘটনা ঘটে।