বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া-এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া, এফটিএ সংক্রান্ত টার্মস অব রেফারেন্স ইতোমধ্যে দুই দেশ চূড়ান্ত ও অনুমোদন করেছে। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশও এফটিএ আলোচনার প্রথম দফা আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আগামী ২১-২২ জুন অনুষ্ঠিতব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সংক্ষিপ্ত সফরটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর যা শেষ করে তার চীন ভ্রমণের কথা রয়েছে। মূলত বাংলাদেশের ‘লুক ইস্ট’ নীতি ও আসিয়ান জোটের সাথে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে হালাল শিল্প, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনশক্তি নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া বর্তমানে বাংলাদেশ-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২৮২.৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে আমদানি ছিল ২.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৭ম বৃহত্তম আমদানি উৎস হিসেবে অবস্থান করে।
অন্যদিকে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২৮৩.৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি হয়েছে ১.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং আমদানি অংশীদার হিসেবে দেশটির অবস্থান ৭ম এ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এফটিএ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্যের জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি বিবেচনায় আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে আরও ইতিবাচক অগ্রগতির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।