ইরান যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইরাকে তেহরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালায়। একই সময়ে কুয়েত থেকেও ইরাকের ভেতরে পাল্টা হামলা চালানো হয় বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত ইতোমধ্যেই গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই হামলার জেরে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত হানে।
সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে চালানো হামলার বিষয়ে বার্তা সংস্থা তথ্য দিয়েছেন তিনজন ইরাকি নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুজন ব্যক্তি, যাদের একজন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি জানান, সৌদি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ইরাক সীমান্তসংলগ্ন সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পশ্চিমা ওই কর্মকর্তা বলেন, কিছু হামলা ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সময়ের কাছাকাছি সংঘটিত হয়।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব স্থান থেকে সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল, সেগুলোই লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরাকি সূত্রগুলো জানায়, অন্তত দুইবার কুয়েতের ভূখণ্ড থেকে ইরাকে রকেট হামলা চালানো হয়। তাদের মতে, এপ্রিল মাসে চালানো এক দফা হামলায় দক্ষিণ ইরাকে কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়। এ ছাড়া সেই হামলায় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া কাতাইব হিজবুল্লাহর যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি স্থাপনা ধ্বংস হয়।
কুয়েত থেকে ছোড়া রকেটগুলো কুয়েতি সশস্ত্র বাহিনী নাকি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ছুড়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয় ও ইরাকি সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব উত্তেজনা প্রশমিত করা, সংযম প্রদর্শন এবং ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে উত্তেজনা হ্রাসে’ আগ্রহী। তবে ইরাকে হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি। ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহর এক মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেননি।
এদিকে রয়টার্সের অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে একাধিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা।
এর আগে কখনও সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে জানা যায়নি। ফলে এই হামলাকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা অবস্থানে সৌদি আরবের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিমানবাহিনী গত মার্চের শেষ দিকে এসব হামলা চালায়। তাদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরবে হামলার জবাবে পাল্টা হামলা হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছিল।’
তবে নির্দিষ্টভাবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।