মালয়েশিয়ার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যসেবা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যখাতের জনবল সরবরাহ নিশ্চিত করতে যৌথ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জুলকিফলি আহমাদ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পার্লামেন্টে দেওয়া এক লিখিত জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ কার্যকর অবস্থায় রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা যেন সবসময় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন এই কমিটি স্বাস্থ্যখাতে জনবল তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয় বাড়াতে কাজ করবে। এর আওতায় শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হবে।
মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার একটি প্রস্তাবও পর্যালোচনা করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়ার পাবলিক সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনবল ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
এই টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাবলিক সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক। এতে ট্রেজারি বিভাগের মহাসচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যখাতের শ্রমবাজারে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির দায়িত্ব পালন করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যসেবা নিয়োগদাতা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক হাসপাতাল, সামরিক হাসপাতাল এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাখাতও এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যখাতে জনবল পরিকল্পনা ও অর্থায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পাবলিক সার্ভিস ডিপার্টমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।