মালয়েশিয়া ও তুর্কমেনিস্তান তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের তুর্কমেনিস্তান সফরে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা।
তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট সারদার বেরদিমুহামেদভের আমন্ত্রণে ১৮–১৯ জুন দুই দিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। সফরকালে উভয় দেশ জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায় নিয়ে আলোচনা করে।
আশগাবাদের প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আনোয়ার ইব্রাহিম ও প্রেসিডেন্ট বেরদিমুহামেদভ দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক সুবিধা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সফরের অন্যতম প্রধান ফলাফল ছিল তেল ও গ্যাস খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ।
এতে মালয়েশিয়ার জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি পেট্রোনাস এবং তুর্কমেনিস্তানের জ্বালানি খাতের মধ্যে তিন দশকের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
উভয় দেশ তুর্কমেনিস্তানের হাইড্রোকার্বন সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
জ্বালানির বাইরেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ চালু রাখার অংশ হিসেবে যৌথ কমিশন বৈঠকের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সফরের সময় আরও কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে আকাশপথ যোগাযোগ, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিনিময় এবং পরিবহন সহযোগিতা। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে এয়ার সার্ভিসেস চুক্তি এবং পরিবহন খাতে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সই হয়।
শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তুর্কমেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেনাগা ন্যাশনাল এর মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে একাডেমিক বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে উৎসাহিত করা হবে।
দুই দেশ বিজ্ঞান, উদ্ভাবন, সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতেও সহযোগিতা বাড়াতে এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, মরুকরণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তুর্কমেনিস্তানের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত অংশীদারিত্বের পথ তৈরি করেছে।