ইরানের বিরুদ্ধে আকাশপথে অভিযান পরিচালনা সহজ করতে ইরাকের মরুভূমিতে একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল। ইরাকি সেনারা যখন সেই ঘাঁটির খোঁজ পায়, তখন তাদের ওপরও বিমান হামলা চালানো হয়। শনিবার (৯ মে) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে
কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞাতসারে ইসরায়েল ওই স্থাপনাটি নির্মাণ করে। সেখানে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করতেন। এটি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য একটি লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এ ছাড়া কোনও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলে পাইলটদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলও সেখানে মোতায়েন ছিল বলে জানায় পত্রিকাটি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে সেখান থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চের শুরুর দিকে ঘাঁটিটির কথা জানাজানি হয়ে যায়। ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এক স্থানীয় মেষপালক ওই এলাকায় হেলিকপ্টার চলাচলসহ অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতার খবর দিয়েছিলেন।
এরপর তদন্তে ইরাকি সেনাদের পাঠানো হলে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে তাদের দূরে সরিয়ে রাখে। সে সময় তারা ঘাঁটিটির অবস্থান গোপন রাখতে সক্ষম হয় বলে সূত্রের বরাতে জানায় পত্রিকাটি।
মার্চের শেষ দিকে জাতিসংঘে দাখিল করা ইরাকের একটি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই অভিযোগে বলা হয়, হামলায় বিদেশি বাহিনী ও বিমান হামলা জড়িত ছিল। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে পত্রিকাটি জানায়, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল না।