মধ্যপ্রাচ্যের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে ইতালি। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো এই ঘোষণা দিয়ে জানান, এই ইস্যুতে সিদ্ধান্তের জন্য ইতালি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অপেক্ষায় থাকবে না।
ক্রোসেতো সতর্ক করে বলেন, ‘নৌপথটি সুরক্ষার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তার অর্থনৈতিক পরিণতি হবে ভয়াবহ।’ তার মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমলাতান্ত্রিক বিলম্বের কারণে বর্তমান জটিল পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না ঘটে, তা নিশ্চিতে কাজ করবে রোম।
লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালিটি ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যকার বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম নৌপথ। সুয়েজ খালে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে তেল, গ্যাস ও কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।
ইয়েমেনকে আফ্রিকা মহাদেশের জিবুতি ও ইরিত্রিয়া থেকে পৃথক করা এই সংকীর্ণ প্রণালিটি দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পরিচালিত হয়। সবচেয়ে সরু পয়েন্টে এর প্রশস্ততা মাত্র ৩০ কিলোমিটার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে চলতি বছরের শুরুর দিকে কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। এরপর বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুটটি বন্ধ হয়ে পড়ায় পারস্য উপসাগরের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বড় একটি অংশ বিকল্প রুটে পাঠাতে হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সৌদি আরব। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে পারস্য উপসাগরের তেল পৌঁছানোর জন্য অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি।
২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেন সরকার এবং হুতি গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে এই প্রণালির উপকূলীয় এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় এর মালিকানা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিরোধ চলছে। গত কয়েক সপ্তাহে এই প্রণালির গুরুত্ব আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দ্বীপসহ ইয়েমেনের সমগ্র পশ্চিম লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
এই অগ্রগতির ফলে হুতিরা বাব আল-মান্দেবে একচ্ছত্র আধিপত্য অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য এই ঘটনাকে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও হুতিরা বলেছে, সৌদি আরব বাদে অন্য সব দেশের জাহাজ নির্বিঘ্নে এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।